Skip to content
তেনজিং নোরগে ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে এভারেস্টের চূড়ায় দাঁড়ান, তারপর দার্জিলিংয়ের ইনস্টিটিউটে ২২ বছর ভারতের পর্বতারোহীদের প্রশিক্ষণ দেন
খেলাধুলা

তেনজিং নোরগে ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে এভারেস্টের চূড়ায় দাঁড়ান, তারপর দার্জিলিংয়ের ইনস্টিটিউটে ২২ বছর ভারতের পর্বতারোহীদের প্রশিক্ষণ দেন

অলঙ্করণ: tuput

বাংলা

তেনজিং নোরগে ও এডমন্ড হিলারি ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছন, তেনজিং রেমন্ড ল্যাম্বেরের সঙ্গে প্রায় ২৮,২০০ ফুট পর্যন্ত ওঠার ঠিক এক বছর এক দিন পরে। ভারত ১৯৫৯ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করে, আর তিনি ১৯৫৪ সালের জুন থেকে ১৯৭৬ সালের মে পর্যন্ত দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ক্ষেত্র প্রশিক্ষণ চালান।

· · 7 মিনিটের পাঠ

নিউজিল্যান্ডের এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে ১৯৫৩ সালের ২৯ মে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছন, বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতের প্রথম নথিভুক্ত আরোহণ। হিমালয়ান ক্লাবের শোকপত্র অনুযায়ী, নেপালের খুম্বু অঞ্চলে বেড়ে ওঠা ও দার্জিলিংয়ে বাসকারী শেরপা তেনজিং ব্রিটিশ আরোহী দলের পূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং সর্দারও, অর্থাৎ শেরপা মালবাহকদের প্রধান। ১৯৫৫ সালের আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছিলেন তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং জন্মসূত্রে নেপালিও।

এরপর ১৯৫৪ সালের জুন থেকে ১৯৭৬ সালের মে পর্যন্ত ২২ বছর তিনি দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে (এইচএমআই) ক্ষেত্র প্রশিক্ষণের ডিরেক্টর ছিলেন, এবং মৃত্যু পর্যন্ত উপদেষ্টা হিসেবে থেকে যান। ১৯৫৯ সালের ২৬ জানুয়ারির গেজেট অফ ইন্ডিয়া পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপকদের মধ্যে “শ্রী তেনজিং নোরকে, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, দার্জিলিং”-এর নাম তালিকাভুক্ত করেছে।

সার্টিফিকেট ছাড়া এক মালবাহক

১৯৩৫ সালে এরিক শিপটনের অনুসন্ধানী দলের দার্জিলিংয়ে আরও দুজন মালবাহক দরকার ছিল, আর তেনজিংকে, যাঁর নিজের বিবরণ অনুযায়ী আগের চাকরির কোনও সার্টিফিকেট ছিল না, বেছে নেওয়া হয় কুড়ির বেশি প্রার্থীর মধ্য থেকে। হিমালয়ান ক্লাবের শোকপত্র বলছে তিনি জন্মভূমি থেকে দার্জিলিংয়ে এসেছিলেন ১৯৩২ সালে, যে পাহাড়ি শহরে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে চলে।

পর্বতারোহী দোরজি লহাটোর লেখা শোকপত্র তারপর বছরের পর বছর তাঁর অগ্রগতি তালিকাভুক্ত করে। তেনজিং ১৯৩৬ সালে নর্থ কল পর্যন্ত মাল বয়েছেন এবং টিলম্যানের ১৯৩৮ সালের অভিযানের সঙ্গে প্রায় ২৭,২০০ ফুটে পৌঁছন। ১৯৪৭ সালে একটি সুইস অভিযানের সঙ্গে গাড়োয়ালে প্রথম আরোহণ করেন, তার মধ্যে ২২,৭৭০ ফুটের কেদারনাথ শৃঙ্গ, ওই অভিযানে মূল সর্দার আহত হলে তিনি সর্দার হন। ১৯৫১ সালে নিখোঁজ দুই ফরাসি আরোহীকে উদ্ধারের চেষ্টায় তিনি নন্দাদেবীর পূর্ব শৃঙ্গে ওঠেন।

১৯৫২ সালের বসন্তে তিনি এক সুইস দলের সঙ্গে এভারেস্টে যান এবং রেমন্ড ল্যাম্বেরের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব রিজ ধরে ওঠেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও হিমালয়ান ক্লাব দুটিই তাঁদের সর্বোচ্চ বিন্দু ২৮,২১০ ফুট (৮,৫৯৮ মি) বলে; তেনজিং নিজে অনুমান করেন প্রায় ২৮,২৫০ ফুট। তাঁরা ফিরে আসেন কারণ, তিনি লিখেছেন, এগোলে তাঁরা জীবিত নামতে পারতেন না। তেনজিং প্রচেষ্টাটির তারিখ দেন ১৯৫২ সালের ২৮ মে, শীর্ষ আরোহণের এক বছর এক দিন আগে। তাঁর গণনায় ১৯৫৩ ছিল পাহাড়টিতে তাঁর সপ্তম যাত্রা।

২৭,৯০০ ফুটের এক তাঁবু থেকে শেষ দুই দিন

১৯৫৩ সালের অভিযান সংগঠিত করে অ্যালপাইন ক্লাব ও রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি, নেতৃত্বে কর্নেল জন হান্ট। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বর্ণনা করে ৩৫০ মালবাহক, ২০ শেরপা ও দশ আরোহী, এবং বলে দলটি ২১ মে দক্ষিণ কলে, শীর্ষের নিচের উঁচু গিরিখাতে, পৌঁছয়। হান্টের পরিকল্পনা আগে পাঠায় টম বোর্ডিলন ও চার্লস ইভান্সকে। ২৬ মে তাঁরা পৌঁছন দক্ষিণ শৃঙ্গে ২৮,৭০০ ফুটে, চূড়া থেকে প্রায় ৩৩০ ফুট নিচে, আর অক্সিজেনে আর না কুলোনোয় ফিরে আসেন।

হিলারির নিজের বিবরণ ১৯৫৩ সালের ২ জুন বেস ক্যাম্পে লেখা একটি চিঠি, যা অ্যালপাইন জার্নাল ১৯৯৩ সালে সম্পাদনা ছাড়া ছাপে। এতে তেনজিংয়ের দুটি কাজ আছে। ২২ মে দুজনে পথ কেটে এগোন যাতে ১৪ জন শেরপা ও তাঁদের সব বোঝা দক্ষিণ কলে পৌঁছয়, যে দিনটিকে হিলারি বলেছেন “অভিযানের মোড় ঘোরার দিন”। ২৮ মে, শীর্ষ ক্যাম্প বসানোর জায়গা খুঁজতে দলটি “তেনজিংয়ের পরামর্শ অনুসরণ করে” বাঁ দিকে পাহাড়ের গায়ে আড়াআড়ি এগিয়ে যায়, যেখানে একটি পাথুরে খাড়াইয়ের নিচে একটি তাক পায়, হিলারির আন্দাজ ২৭,৯০০ ফুটে। তিনি ও তেনজিং তিন ঘণ্টা, বিকেল ২টা ৩০ থেকে ৫টা ৩০ পর্যন্ত, তাঁবুর জন্য মঞ্চ বানান।

তাঁরা তাঁবু ছাড়েন ২৯ মে সকাল ৬টা ৩০-এ এবং দক্ষিণ শৃঙ্গে পৌঁছন সকাল ৯টায়। শেষ বাধা ছিল প্রায় ৪০ ফুটের একটি পাথুরে ধাপ, যা হিলারি পাথর ও পাশের বরফের মাঝে নিজেকে গুঁজে চড়েন; পরে এর নাম হয় হিলারি স্টেপ। তেনজিংয়ের মনে ছিল, ধাপের ওপারের রিজ ছিল “শুধু বরফের কুঁজের সারি”, আর শেষের দিকে তিনি ও হিলারি থেমে ওপরে তাকান, শীর্ষ থেকে প্রায় তিরিশ ফুট নিচে, তারপর এগোন। শীর্ষে পৌঁছনোর সময় তিনি দিয়েছিলেন সকাল এগারোটা ত্রিশ।

শীর্ষে পনেরো মিনিট

তেনজিংয়ের বিবরণে এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মতে তাঁরা প্রায় পনেরো মিনিট ছিলেন। তেনজিং তাঁর বরফ-কুড়ুল থেকে চারটি পতাকা খোলেন, ক্রম: রাষ্ট্রসংঘ, ব্রিটিশ, নেপালি, ভারতীয়, আর হিলারি তাঁর ছবি তোলেন। তেনজিং লিখেছেন তিনি ইশারা করেছিলেন বদলে হিলারির ছবি তুলবেন, আর হিলারি মাথা নাড়েন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ২০০৩ সালে জানায় হিলারি বলেছেন তেনজিং কখনও ক্যামেরা চালাননি এবং শেখানোর সময় ছিল না। দুটি বিবরণ একই ফলের আলাদা কারণ দেয়: শীর্ষে হিলারির কোনও ছবি নেই।

তেনজিং বরফে একটি গর্ত খুঁড়ে মিষ্টি, তাঁর মেয়ে নিমার দেওয়া একটি লাল-নীল পেনসিল এবং হান্টের হিলারিকে মাসকট হিসেবে দেওয়া একটি ছোট কালো কাপড়ের বেড়াল রেখে আসেন। হিলারির গল্পে আছে তিনি হান্টের দেওয়া একটি ক্রুশ রেখেছিলেন; তেনজিং লিখেছেন তা হলে তিনি তা দেখেননি। দুজনেই ১৯২৪ সালে পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়া জর্জ ম্যালোরি ও অ্যান্ড্রু আরভিন আগে সেখানে পৌঁছেছিলেন কি না তার কোনও চিহ্ন খোঁজেন, কিছু পাননি।

লন্ডনে আরোহণের খবর পৌঁছয় ২ জুন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেকের দিনে, এপির মতে।

সম্মান, আর যে নাইটহুড তেনজিং ব্যাখ্যা করেছিলেন

নেপালের রাজা ত্রিভুবন তেনজিংকে দেন নেপাল তারা (নেপালের তারা), যাকে তেনজিং দেশের সর্বোচ্চ অলংকরণ বলে বর্ণনা করেন। হান্ট ও হিলারি নাইট উপাধি পান। তেনজিং পান জর্জ পদক। ১৯৫৩ সালের দলের সদস্য চার্লস ওয়াইলি অ্যালপাইন জার্নালে লিখেছেন, তেনজিং এটি রানির হাত থেকে সরাসরি বাকিংহাম প্যালেসে পান, এবং একে বর্ণনা করেছেন জর্জ ক্রসের পরে সাহসিকতার সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসেবে। রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি যোগ করে, রানি ১২ জন শীর্ষস্থানীয় শেরপাকে অভিষেক পদকও দেন, ১৯৫৪ সালের জুনে থ্যাংবোচে মঠে চার্লস ইভান্সের হাত দিয়ে।

টাইগার অফ দ্য স্নোজ বইয়ে তেনজিং লিখেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারত তার নাগরিকদের বিদেশি উপাধি নিতে দেয় না, তাই নাইটহুড তাঁকে কেবল অস্বস্তিতে ফেলত, এবং তিনি অপমানিত বোধ করেননি। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এক অভ্যর্থনায় তাঁকে গ্রহণ করেন, লন্ডনে যেতে পরামর্শ দেন এবং, তেনজিং লিখেছেন, সফরের জন্য তাঁকে জামাকাপড় দেন। তাঁকে দুটি পাসপোর্ট দেওয়া হয়, একটি ভারতীয়, একটি নেপালি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নেপালে থেকে গেলে তাঁকে একটি বাড়ি দিতে চাইলে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং, তাঁর স্মৃতি অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার জন্ম নেপালের গর্ভে, বেড়ে ওঠা ভারতের কোলে।”

ওয়াইলি নথিভুক্ত করেছেন, জনসাধারণের চাঁদার টাকায় দার্জিলিংয়ে তাঁর জন্য একটি বড় বাড়ি কেনা হয়, যার আয়োজন করে একটি ভারতীয় সংবাদপত্র। ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করে।

দার্জিলিংয়ের স্কুল

ইনস্টিটিউট নিয়ে তেনজিংয়ের বিবরণ শুরু একটি চিঠি দিয়ে। তাঁর বন্ধু রবি মিত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডা. বি. সি. রায়কে লিখে তেনজিংকে প্রধান করে একটি ভারতীয় পর্বতারোহণ স্কুলের প্রস্তাব দেন। রায় ও তেনজিং রাজি হন, মেজর এন. ডি. জয়াল প্রশাসন নেন, এবং সুইস ফাউন্ডেশন ফর অ্যালপাইন রিসার্চের আর্নল্ড গ্ল্যাটহার্ড পরামর্শ দিতে আসেন। ১৯৫৩ সালের অক্টোবরে তিনজন সিকিমে যান, যা ১৯৭৫ সালে ভারতের রাজ্য হয়, কোকতান ও কাং শৃঙ্গ অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বাছতে। ইনস্টিটিউট চালুর আগে তেনজিং ও আরও ছয় শেরপা সুইজারল্যান্ডের রোজেনলাউয়ে গ্ল্যাটহার্ডের পর্বতারোহণ স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন।

ইনস্টিটিউটের নিজের ইতিহাস এর পরিকল্পনার কৃতিত্ব দেয় নেহরু ও রায়কে, আর বলে তেনজিংয়ের এভারেস্ট আরোহণ প্রেরণা জোগায়। এটি প্রতিষ্ঠিত ১৯৫৪ সালের ৪ নভেম্বর; তেনজিং লিখেছেন নেহরু সেদিন এর উদ্বোধন করেন। এটি শুরু হয় লেবং কার্ট রোডের রায় ভিলায় এবং ১৯৫৮ সালে বার্চ হিলে যায়। ওয়াইলি নেহরুকে উদ্ধৃত করেন, ইনস্টিটিউটের উদ্দেশ্য ছিল “আরও তেনজিং তৈরি করা”।

এটি প্রশিক্ষক তৈরিও করেছে। তেনজিংয়ের ভাইপো নাওয়াং গোম্বু প্রথম ব্যাচে ছিলেন, ১৯৬৩ সালে এক মার্কিন অভিযানের সঙ্গে এবং ১৯৬৫ সালে ভারতীয় অভিযানের সঙ্গে এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছন, এবং দুবার ওঠা প্রথম মানুষ হন, ওয়াইলি ও ইনস্টিটিউটের মতে। গোম্বু ১৯৭৬ সালে তেনজিংয়ের পরে ক্ষেত্র প্রশিক্ষণের ডিরেক্টর হন। ইনস্টিটিউটের ইতিহাস-পাতা বলছে ৬২ বছরে এটি ৪৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তার মধ্যে ২,৫০০ বিদেশ থেকে।

প্রথম কে উঠেছিলেন, আর অন্য খোলা প্রশ্ন

১৯৫৩ সালে বিশ্ব যে প্রশ্নটি করেছিল তা হলো কে আগে শীর্ষে পৌঁছন। রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির ফ্যাক্ট শিট বলছে আরোহীরা তখন চুপ ছিলেন এবং ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, নেপাল ও ভারত প্রত্যেকে নিজের দাবি তোলে। হিলারি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে বলেন তিনি, হান্ট ও তেনজিং না বলতে একমত হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সালের ২২ জুন নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দুজন মিলিত বিবৃতিতে সই করেন, যাতে বলা ছিল তাঁরা “প্রায় একসঙ্গে শীর্ষে পৌঁছন”।

তেনজিং নীরবতা ভাঙেন টাইগার অফ দ্য স্নোজ-এ, ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, মার্কিন লেখক জেমস র‍্যামসি উলম্যানের সঙ্গে লেখা। তিনি লেখেন: “হিলারি আগে শীর্ষে পা রাখেন। আর আমি তাঁর পরে উঠি।” তিনি বলেন এভারেস্টের খাতিরে তিনি উত্তর দিচ্ছেন, দুজনের কারও জন্য নয়, এবং তাঁর নিজের লোকদের অনেকে নিরাশ হবেন। হিলারির ১৯৫৩ সালের চিঠি বলে তিনি ধাপটিতে “তেনজিংকে টেনে তোলেন”; তেনজিং লিখেছেন তাঁরা পুরো পথ একে অপরকে সাহায্য করেন এবং “অংশীদার ছিলেন”। এপি ২০০৩ সালে জানায় হিলারি বলেছেন এর কোনও গুরুত্ব নেই।

তেনজিংয়ের জন্মও অনথিভুক্ত। তিনি লিখেছেন তাঁর জন্ম মাকালুর কাছে সা-চুতে, খরগোশের বছরে, যা তাঁর নিজের হিসাবে ১৯১৪, মে মাসের শেষে; শেরপারা জন্মদিন রাখে না, তিনি লিখেছেন, আর মে মাসের শেষটাই তাঁর বার্ষিকী হিসেবে চলবে। রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির ফ্যাক্ট শিট তিব্বতের মোয়েই গ্রামকে তাঁর জন্মস্থান বলে। ওয়াইলি ও হিমালয়ান ক্লাব দুজনেই মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ৭২ বলে।

১৯৭৬ থেকে ১৯৮৬

তেনজিং ১৯৭৬ সালের মে মাসে ক্ষেত্র প্রশিক্ষণের ডিরেক্টর পদ থেকে অবসর নেন এবং উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। এক বছরের বেশি ফুসফুসের অসুখের পর ১৯৮৬ সালের ৯ মে দার্জিলিংয়ে নিজের বাড়িতে মারা যান, হিমালয়ান ক্লাব নথিভুক্ত করেছে। হিলারি ও তাঁর স্ত্রী জুন ছিলেন অন্ত্যেষ্টিতে একমাত্র বিদেশি, এপি জানায়, আর শবাধারের পিছনের মিছিল ছিল এক কিলোমিটারের বেশি লম্বা, ওয়াইলি ও লহাটোর মতে।

ভারত সরকারের তেনজিং নোরগে জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার পুরস্কার তাঁর নাম বহন করে। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সরকার ২০২৪ সালের পুরস্কার ঘোষণা করে: স্থল অ্যাডভেঞ্চারে বলজিৎ কৌর ও স্কালজাং রিগজিন, জল অ্যাডভেঞ্চারে রিমো সাহা এবং আজীবন কৃতিত্বে শিব প্রসাদ চামোলি, প্রত্যেকে একটি মূর্তি, একটি শংসাপত্র ও ১৫ লক্ষ টাকা সহ।

Share
Copied!

সূত্র ও আরও পড়ার জন্য

  1. Tenzing Norgay with James Ramsey Ullman, Tiger of the Snows: The Autobiography of Tenzing of Everest (G. P. Putnam's Sons, 1955), full text at the Internet Archive
  2. The Gazette of India Extraordinary, 26 January 1959: Padma awards notification (Padma Awards portal, Government of India)
  3. Himalayan Mountaineering Institute, Darjeeling: history of the Institute (official site)
  4. Royal Geographical Society: fact sheet on Tenzing Norgay
  5. Alpine Journal 1993: Charles Wylie, Tenzing Norgay and the Sherpa team (Everest 40th anniversary issue)
  6. Alpine Journal 1993: Edmund Hillary, a letter to Jim Rose written at Everest Base Camp on 2 June 1953
  7. Himalayan Journal vol. 43: In Memoriam, Tenzing Norgay (1914-1986), by Dorjee Lhatoo (Himalayan Club)
  8. National Geographic: David Roberts, excerpt from 50 Years on Everest, on the 1953 British expedition
  9. Deseret News (AP, 26 May 2003): Hillary recalls moments standing on top of world
  10. American Alpine Journal: review of Tiger of the Snows (1955)
  11. Akashvani News On AIR: Tenzing Norgay National Adventure Awards 2024 announced (2 September 2026)

পর্দায় ও বইয়ে

  • Tiger of the Snows: The Autobiography of Tenzing of Everest (1955) , লেখক Tenzing Norgay with James Ramsey Ullman , English . তেনজিংয়ের নিজের বিবরণ, এক মার্কিন সহ-লেখকের সঙ্গে লেখা; শীর্ষে কে প্রথম পা রাখেন সে সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য এই বই থেকেই আসা

এই তালিকা তাঁদের জন্য যাঁরা পর্দায় দেখা গল্পের পিছনের ইতিহাস খুঁজছেন। কোনো নাট্যরূপ সূত্র নয়, এবং এই কাজগুলির কোনোটির সঙ্গে tuput যুক্ত নয়।

এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।

#tenzing norgay#biography#mount everest#1953 everest expedition#himalayan mountaineering institute#darjeeling#sherpa#padma bhushan

ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।

একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।

একই বিভাগে আরও: খেলাধুলা
ধ্যান চাঁদ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনটি অলিম্পিক হকিতে সোনা জেতেন, ১২টি ম্যাচে ভারত ১০২ গোল করে আর হজম করে ৩টি
চাঁদের আলোয় অনুশীলন করা এক সেনা সিপাহি থেকে ১৯৩৬ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক। ম্যাচ ধরে ধরে রেকর্ড, সূত্রভেদে আলাদা গোলসংখ্যা, আর তাঁর নাম বহনকারী সম্মান।
এ. আর. রহমান রোজা-র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান, তারপর স্লামডগ মিলিয়নেয়ার-এর জন্য একটি গোল্ডেন গ্লোব, একটি বাফটা, দুটি অস্কার আর দুটি গ্র্যামি
১৯৯২ সালের পুরস্কারের ডিরেক্টরেট অব ফিল্ম ফেস্টিভালসের ক্যাটালগে রোজা-র সংগীত নিয়ে জুরির প্রশস্তিপত্র ছাপা আছে। বাকিটা আছে অ্যাকাডেমি, রেকর্ডিং অ্যাকাডেমি আর গেজেট অব ইন্ডিয়ায়, ১২৭ আওয়ার্স-এর জন্য রহমানের ২০১১ সালের অস্কার মনোনয়ন পর্যন্ত।
আমির খানের লগান ২০০২ সালে অস্কারের পাঁচ মনোনীতের একটি ছিল, আর তাঁর দঙ্গল ২০১৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে চীনে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ডলার আয় করে সেখানকার সবচেয়ে বড় হলিউড-বহির্ভূত মুক্তি হয়ে ওঠে
১৯৮৮ সালের অভিষেক থেকে ২০১৭ সালের এমন এক মুক্তি পর্যন্ত, যা চীনের সিনেমাহলে দু'মাস চলেছে: আমির খানের চারটি ছবির পেছনের পুরস্কার, তারিখ আর ব্যবসার অঙ্ক, আর ফোগাট পরিবারের আসল গল্প থেকে দঙ্গল কী বদলেছে।
← সব লেখা