অলঙ্করণ: tuput
বাংলা
চন্দ্রশেখর মাদ্রাজের প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েন, তারপর কেমব্রিজ যাওয়ার পথে হিসাব কষে দেখান যে শ্বেত বামন তারার একটি সর্বোচ্চ ভর আছে, আজকের মান অনুযায়ী সূর্যের ভরের প্রায় ১.৪ গুণ। সীমাটি তাঁর নাম বহন করে এবং যে সুপারনোভা দিয়ে জ্যোতির্বিদেরা মহাবিশ্বের দূরত্ব মাপেন, তার ব্যাখ্যায় আসে। ১৯৮৩ সালে তিনি পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের ভাগ পান।
সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর ১৯৩০ সালের ৩১ জুলাই, ১৯ বছর বয়সে, ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে কেমব্রিজে পড়তে বোম্বে ছাড়েন, আর জাহাজের পথেই এমন একটি হিসাব শেষ করেন যা শ্বেত বামন তারার জন্য একটি সর্বোচ্চ ভর ঠিক করে দেয়। সেই ঊর্ধ্বসীমাই এখন চন্দ্রশেখর সীমা, সূর্যের ভরের প্রায় ১.৪ গুণ। ১৯৮৩ সালের পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের একটি ভাগ যায় তাঁর কাছে, আর ১৯৯৯ সালে উৎক্ষেপিত নাসার প্রধান এক্স-রে টেলিস্কোপ তাঁর সম্মানে চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দির নামে পরিচিত।
জমারফেল্ড পড়া এক মাদ্রাজি ছাত্র
১৯১০ সালে ব্রিটিশ ভারতের অংশ তখনকার লাহোরে জন্ম, দশ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় এবং বড় ছেলে। বাবা চন্দ্রশেখর সুব্রহ্মণ্য আইয়ার ভারতীয় নিরীক্ষা ও হিসাব বিভাগে কাজ করতেন, আর মা সীতা ইবসেনের ‘আ ডলস হাউস’ তামিলে অনুবাদ করেন। পরিবার ১৯১৮ সালে মাদ্রাজে থিতু হয়।
১৯২৫ সাল থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ে তিনি ১৯৩০ সালের জুনে পদার্থবিদ্যায় অনার্স ডিগ্রি পান। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সহকর্মী ইউজিন পার্কার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ছেলেকে সিভিল সার্ভিসে দেখতে চাওয়া বাবার সঙ্গে আপস করে চন্দ্রশেখর পদার্থবিদ্যা বেছে নেন, আর রামানুজন তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন। এদিকে তাঁর কাকা সি. ভি. রমন ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান, যে বছর চন্দ্রশেখর দেশ ছাড়েন।
১৯২৮ সালের হেমন্তে আর্নল্ড জমারফেল্ড কলেজে বক্তৃতা দিলে ছাত্রটি তাঁর কাছ থেকে জানেন যে নতুন কোয়ান্টাম পরিসংখ্যান পুরনোটির জায়গা নিয়েছে। এর পর কমপটন বিক্ষেপণ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র ১৯২৯ সালের জানুয়ারিতে কেমব্রিজের আর. এইচ. ফাউলারের কাছে যায়, ফাউলার তা রয়্যাল সোসাইটিতে পাঠান। পার্কার বলছেন, মেঘনাদ সাহা তরুণ লেখককে আলোচনার জন্য এলাহাবাদে ডাকেন। ১৯৩০ সালের গোড়ায় ভারত সরকার ইংল্যান্ডে তিন বছরের একটি বৃত্তি দেয়, আর চন্দ্রশেখর ফাউলারের অধীনে কাজ করতে চান।
জাহাজের ওপর হিসাব
পার্কারের মতে, জাহাজটি ১৯৩০ সালের ৩১ জুলাই বোম্বে থেকে ভেনিসের উদ্দেশে রওনা দেয়, আর চন্দ্রশেখর রেলে এগিয়ে ১৯ আগস্ট লন্ডনে পৌঁছান। ফ্রিম্যান ডাইসন জাহাজের নাম বলেছেন পিলসনা, লয়েড ত্রিয়েস্তিনোর একটি স্টিমার।
১৯২৬ সালে ফাউলার নতুন পরিসংখ্যান দিয়ে শ্বেত বামনের ব্যাখ্যা দেন: সূর্যের মতো তারার ঘন, ক্ষীয়মাণ অবশেষ, পৃথিবীর আকারের একটি গোলকে প্রায় একটি সূর্যের ভর ঠাসা। এর ভেতরে ইলেকট্রনগুলি এত গায়ে গায়ে চাপা যে কোয়ান্টাম নিয়ম আর তাদের ঘনিষ্ঠতর হতে দেয় না, আর সেই বাধাই তারাটিকে নিজের অভিকর্ষের বিরুদ্ধে ধরে রাখে। ফাউলার ধরে নিয়েছিলেন ইলেকট্রনগুলি ধীরগতির। চন্দ্রশেখর ইলেকট্রনকে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা মেনে চলা কণা ধরে হিসাবটি আবার কষেন, কারণ অত ঘনত্বে তারা আলোর গতির কাছাকাছি ছোটে।
তাতে তারাটি সংকুচিত হলে চাপ কীভাবে সাড়া দেয় তা বদলে যায়। পার্কারের ব্যাখ্যায়, আপেক্ষিকতাধর্মী গ্যাসের সূচক ৪/৩, যেখানে ফাউলারের গ্যাসের ছিল ৫/৩, আর ৪/৩ হলে তারা সংকুচিত হওয়ার সময় তাকে ধরে রাখা চাপ অভিকর্ষের চেয়ে দ্রুত বাড়ে না। একটি নির্দিষ্ট ভরের ওপরে ধসকে আর কিছুই থামায় না। ডাইসন লিখেছেন, ছাত্রটি ইংল্যান্ডে পৌঁছনোর আগেই হিসাব শেষ করেন এবং সিদ্ধান্তে কখনও সন্দেহ করেননি।
অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে ছাপা সংক্ষিপ্ত নিবন্ধটির স্বাক্ষরস্থান কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ, তারিখ ১৯৩০ সালের ১২ নভেম্বর, আর তা বেরোয় ১৯৩১ সালে ৭৪তম খণ্ডে। সেখানে আদর্শ শ্বেত বামনের সর্বোচ্চ ভর দেওয়া হয় সূর্যের ০.৯১ গুণ, সম্পূর্ণ আয়নিত পদার্থের জন্য আণবিক ওজন ২.৫ ধরে, আর তুলনা করা হয় ই. সি. স্টোনারের আগের একটি অনুমানের সঙ্গে, যেখানে তারার ঘনত্ব সর্বত্র সমান ধরা হয়েছিল। নোবেল ফাউন্ডেশন ১৯৩১ সালে মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটিতে দ্বিতীয় একটি নিবন্ধেরও তালিকা দেয়, ‘দ্য হাইলি কলাপস্ড কনফিগারেশনস অফ আ স্টেলার মাস’। ডাইসন লিখেছেন, ফাউলার বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন কিন্তু নিঃসংশয় হননি, তাই চন্দ্রশেখর তাঁর অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি আমেরিকান পত্রিকায় পাঠিয়ে দেন।
কেমব্রিজ, ১৯৩৫ সালের জানুয়ারি
১৯৩৩ সালের গ্রীষ্মে পিএইচ.ডি. হয়, সঙ্গে সেই অক্টোবর থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ট্রিনিটি কলেজের প্রাইজ ফেলোশিপ। ১৯৩৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে এক মাস কাটান, সেখানে জ্যোতির্বিদ ভিক্টর আম্বারৎসুমিয়ান তাঁকে সমস্যাটি নিখুঁতভাবে কষতে তাগিদ দেন, আর পার্কারের মতে তিনি হাতে-চালানো ক্যালকুলেটরে পূর্ণ সংখ্যাগত সমাধান গড়ে ১৯৩৪ সালের শেষে শেষ করেন।
লন্ডনে রয়্যাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির ১৯৩৫ সালের জানুয়ারির সভায় তিনি তা উপস্থাপন করেন। হেমন্তকালে মাঝেমধ্যে তাঁর ঘরে আসতেন এডিংটন, তিনি সোসাইটির সচিবকে বলে নিবন্ধটির জন্য স্বাভাবিকের দ্বিগুণ সময় রাখান আর তার ঠিক পরে ‘রিলেটিভিস্টিক ডিজেনারেসি’ শিরোনামে বলার ব্যবস্থা করেন। উইলিয়াম ম্যাকক্রির লেখা চন্দ্রশেখরের মৃত্যুসংবাদ উদ্ধৃত করে পার্কার বলছেন, এডিংটন শুরু করেন এই কথা মেনে যে আপেক্ষিকতাধর্মী ইলেকট্রন গ্যাসের জন্য হিসাবটি ঠিক, তারপর যুক্তি দেন যে তারারা সেভাবে আচরণ করে না, আর ফলটিই দেখায় তত্ত্বটি ভুল। ম্যাকটিউটর তাঁকে উদ্ধৃত করেছে: “প্রকৃতির এমন একটি নিয়ম থাকা উচিত যা তারাকে এই অযৌক্তিক আচরণ থেকে আটকায়।”
পার্কার লিখেছেন, চন্দ্রশেখরের প্রজন্মের পাউলি, ডিরাক ও অন্য পদার্থবিদেরা এডিংটনের দাবিকে অর্থহীন মনে করতেন। ম্যাকটিউটর যোগ করেছে, নিলস বোরের মহল ও পাউলি চন্দ্রশেখরের গবেষণাপত্রগুলির সঙ্গে একমত ছিলেন কিন্তু তাঁরা খুব ব্যস্ত বলে তর্কে নামতে চাননি। ১৯৩৫ সালের জুলাইয়ে প্যারিসে আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রনমিক্যাল ইউনিয়নের সভায় এডিংটন এক ঘণ্টা এই বিষয়ে বলেন। চন্দ্রশেখর ১৯৭৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে মনে করেছেন, সভাপতি হেনরি নরিস রাসেলের কাছে তিনি উত্তর দেওয়ার সুযোগ চান এবং না শোনেন।
স্বীকৃতি এল ধীরে ধীরে। ১৯৩৯ সালে জে. রবার্ট ওপেনহাইমার ও হার্টল্যান্ড স্নাইডার মেনে নেন যে সীমার ওপরের ভরের ঠান্ডা তারার কোনও স্থিতিশীল অবস্থা নেই, এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুযায়ী তারপর কী ঘটে তা কষে বের করেন: তারাটি অন্তহীনভাবে ভেতরের দিকে পড়তে থাকে, যাকে ডাইসন কৃষ্ণগহ্বর বলে চিহ্নিত করেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ফাইন্ডিং এইড অনুযায়ী, যে বিরোধিতা সীমাটি পেয়েছিল তার ২০ বছরেরও বেশি পরে এটি পুরোপুরি স্বীকৃত হয়। চন্দ্রশেখর ১৯৩৯ সালে নিজের তত্ত্ব একটি পাঠ্যবইয়ে সাজিয়ে অন্য বিষয়ে চলে যান। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাগাজিন জানাচ্ছে, তাঁর শেষ দিকের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এডিংটনের প্রশংসায় পাওয়া আগাম খ্যাতি বিজ্ঞানচর্চা চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারত।
শিকাগো, আর একে একে সাতটি ক্ষেত্র
১৯৩৬ সালের গোড়ায় হার্ভার্ড সফরে অটো স্ত্রুভে এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি রবার্ট মেনার্ড হাচিন্স তাঁকে একটি পদের প্রস্তাব দেন। তিনি ১৯৩৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষদে যোগ দেন। ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে প্রেসিডেন্সি কলেজের সহপাঠী ললিতা দোরাইস্বামীকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। দম্পতি ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন।
নোবেল ফাউন্ডেশনের জীবনীতে তাঁর কর্মজীবন সাতটি পর্বে সাজানো, প্রতিটির শেষে একটি বই: শ্বেত বামন-সহ তারার গঠন (১৯২৯ থেকে ১৯৩৯), নাক্ষত্রিক গতিবিদ্যা (১৯৩৮ থেকে ১৯৪৩), বিকিরণ স্থানান্তর (১৯৪৩ থেকে ১৯৫০), জলগতীয় ও জলচৌম্বকীয় স্থিতিশীলতা (১৯৫২ থেকে ১৯৬১), সাম্যাবস্থার উপবৃত্তাকার আকৃতি (১৯৬১ থেকে ১৯৬৮), সাধারণ আপেক্ষিকতা (১৯৬২ থেকে ১৯৭১) এবং কৃষ্ণগহ্বরের গাণিতিক তত্ত্ব (১৯৭৪ থেকে ১৯৮৩)। ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালের সম্পাদক ছিলেন, এবং অন্তত ৪৬ জন ডক্টরাল ছাত্রের তত্ত্বাবধান করেন।
১৯৩৮ সালের একটি ঘটনা পার্কারের স্মৃতিকথায় আছে। ভৌত বিজ্ঞানের ডিন একটি ক্যাম্পাস জ্যোতির্বিজ্ঞান কোর্সে চন্দ্রশেখরের অংশ বাতিল করে দেন, দৃশ্যত গায়ের রঙের কারণে। হাচিন্স তা নাকচ করেন: “অবশ্যই মিস্টার চন্দ্রশেখর পড়াবেন।”
১৯৮৩ সালের নোবেল পুরস্কার
রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস ১৯৮৩ সালের পদার্থবিদ্যা পুরস্কার ঘোষণা করে ১৯ অক্টোবর। অর্ধেক যায় চন্দ্রশেখরের কাছে, “তারার গঠন ও বিবর্তনের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভৌত প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর তাত্ত্বিক অধ্যয়নের জন্য”। বাকি অর্ধেক যায় ক্যালটেকের উইলিয়াম এ. ফাউলারের কাছে, যিনি চন্দ্রশেখরের কেমব্রিজের তত্ত্বাবধায়ক আর. এইচ. ফাউলার থেকে আলাদা পদার্থবিদ, রাসায়নিক মৌল গড়ে ওঠার নিউক্লীয় বিক্রিয়া নিয়ে কাজের জন্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশের কোঠায় করা শ্বেত বামনের গঠন-সংক্রান্ত তাঁর গবেষণাকে সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে পরিচিত কীর্তি বলা হয়েছে।
নোবেল বক্তৃতা তিনি দেন ১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর। পার্কার লক্ষ করেছেন, পঞ্চাশ বছর আগের কাজের জন্য পুরস্কারটি এসেছিল, আর বিকিরণ স্থানান্তর, নাক্ষত্রিক গতিবিদ্যা, প্লাজমা, তরলের স্থিতিশীলতা ও অভিকর্ষ নিয়ে চন্দ্রশেখরের পরের কাজ সব মিলিয়ে ভরসীমার চেয়ে বড় অবদান।
অন্য সম্মানের মধ্যে ১৯৪৪ সালে রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচন, ১৯৫২ সালে ব্রুস পদক, ১৯৫৩ সালে রয়্যাল অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটির স্বর্ণপদক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মেডেল অফ সায়েন্স। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ফাইন্ডিং এইড ভারতের পদ্মবিভূষণও তার মধ্যে ধরেছে, আর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাগাজিন গুনেছে ২০টি সম্মানসূচক ডিগ্রি এবং ২১টি বিদ্বৎসভার সদস্যপদ। তাঁর শেষ বই ‘নিউটনস প্রিন্সিপিয়া ফর দ্য কমন রিডার’ বেরোয় ১৯৯৫ সালে। চন্দ্রশেখর শিকাগোয় মারা যান ১৯৯৫ সালের ২১ আগস্ট।
সীমাটি এখন কী ব্যাখ্যা করে
নোবেল বক্তৃতায় চন্দ্রশেখর লক্ষ করেন, নির্ভরযোগ্য ভর-অনুমান পাওয়া পালসারগুলি সবই ধারাবাহিকভাবে ১.৪ সৌর ভরের কাছাকাছি। একই সংখ্যা দেখা যায় টাইপ Ia সুপারনোভা নামের বিস্ফোরিত তারাগুলিতে, যাকে নাসার হিসেক সীমা ছাড়িয়ে ঠেলে দেওয়া একটি শ্বেত বামনের মৃত্যু বলে বর্ণনা করে। তাতে এগুলি হবে নির্ভরযোগ্য আদর্শ মোমবাতি, অর্থাৎ দূরত্ব বিচারের জন্য জানা উজ্জ্বলতার বাতি।
২০১১ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার যায় সল পার্লমুটার, ব্রায়ান স্মিট ও অ্যাডাম রিসের কাছে, দূরের সুপারনোভা থেকে মহাবিশ্বের প্রসারণ ত্বরান্বিত হচ্ছে তা আবিষ্কারের জন্য, আর নোবেল ফাউন্ডেশন বলছে দুটি দলই টাইপ Ia সুপারনোভা ব্যবহার করেছিল। লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বর্ণনা করা ২০১৪ সালের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমন বেশির ভাগ শ্বেত বামন সীমার কাছে বা সামান্য নিচে আছে, আর প্রায় এক শতাংশ ওপরে, তাই প্রতিটি কীভাবে বিস্ফোরণে পৌঁছয় তা এখনও বের করা হচ্ছে।
১৯৮৩ সালের বই ‘দ্য ম্যাথমেটিক্যাল থিওরি অফ ব্ল্যাক হোলস’-এর বিষয় কৃষ্ণগহ্বর এখন শনাক্ত ও ছবিতে ধরা পড়ে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাগাজিন ২০১৫ সালে লিগো-র মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তকরণের (সংঘর্ষ ডিটেক্টর কীভাবে শোনে) এবং ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের প্রকাশ করা ছবিগুলির (প্রথম কৃষ্ণগহ্বরের ছবি) কথা বলেছে।
চন্দ্র নামের একটি টেলিস্কোপ
নাসা ১৯৯৮ সালের ২১ ডিসেম্বর তার অ্যাডভান্সড এক্স-রে অ্যাস্ট্রোফিজিক্স ফ্যাসিলিটির নাম বদলে চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দির রাখে। ৫০টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য ও ৬১টি দেশ থেকে ৬,০০০-এরও বেশি এন্ট্রি আসা এক জনপ্রতিযোগিতা থেকে নামটি আসে। নাসার বিজ্ঞপ্তি বলছে, তিনি বিশ্বে চন্দ্র নামে পরিচিত ছিলেন, আর শব্দটির সংস্কৃত অর্থ দিয়েছে “চাঁদ” বা “দ্যুতিময়”। ব্রিটেনের রাজকীয় জ্যোতির্বিদ (অ্যাস্ট্রনমার রয়্যাল) মার্টিন রিস বলেন, আইনস্টাইনের পর চন্দ্রশেখর “সম্ভবত আমাদের মহাবিশ্ব নিয়ে যে-কারও চেয়ে দীর্ঘ ও গভীর ভেবেছেন”।
স্পেস শাটল কলম্বিয়া ১৯৯৯ সালের ২৩ জুলাই মানমন্দিরটিকে কক্ষপথে নিয়ে যায়। চারটি একটির ভেতর আরেকটি বসানো আয়না ৯.২ মিটারের অপটিক্যাল বেঞ্চের প্রান্তের ডিটেক্টরে এক্স-রে কেন্দ্রীভূত করে, আর কক্ষপথে এটি পৃথিবী থেকে ১,৩৯,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যায়, এক্স-রে আটকে দেওয়া বায়ুমণ্ডলের ওপরে। পরিচালনা চলে ম্যাসাচুসেটসের কেমব্রিজে স্মিথসোনিয়ান অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে।
সূত্র ও ইতিহাসবিদেরা যেখানে আলাদা কথা বলেন
প্রথমে জন্মতারিখ: নোবেল ফাউন্ডেশন ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার দেয় ১৯১০ সালের ১৯ অক্টোবর, আর পার্কারের স্মৃতিকথা বলে ১৩ অক্টোবর।
তারাটি কী দিয়ে গড়া তার ওপর সীমার মান নির্ভর করে। ১৯৩১ সালের গবেষণাপত্র আণবিক ওজন ২.৫ ধরে ০.৯১ সৌর ভর দিয়েছিল। ম্যাকটিউটর বলছে, ওজন সংশোধন করে ২.০ করার পর সংখ্যাটি হয় ১.৪৪। ডাইসন যে তারার সব হাইড্রোজেন পুড়ে গেছে তার জন্য প্রায় ১.৫ বলেছেন, আর নোবেল বক্তৃতা ও নাসা দুটিই ব্যবহার করে প্রায় ১.৪।
১৯৩৫ সালের পরের ঘটনাকে ইতিহাসবিদেরা আলাদাভাবেও পড়েন। আর্থার মিলার ২০০৫ সালের বই ‘এম্পায়ার অফ দ্য স্টারস’-এ যুক্তি দেন যে সেই মুখোমুখি হওয়া থেকে চন্দ্রশেখর কখনও সেরে ওঠেননি। ১৯৯১ সালের জীবনীর লেখক কামেশ্বর ওয়ালি ২০০৬ সালে ফিজিক্স টুডেতে জবাবে লেখেন, আবিষ্কারের বিষয়ে মিলারের বিবরণ অতিরঞ্জিত ও ভুল, আর চন্দ্রশেখরকে তাঁর পদার্থবিদ্যা সঠিক বলে স্বীকৃতির জন্য লড়তে হয়নি। একই সংখ্যায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের ডি. সি. ভি. মল্লিক সভার দুই মাস পর, ১৯৩৫ সালের ২০ মার্চ চন্দ্রশেখরের লেখা একটি চিঠি উদ্ধৃত করেন, যেখানে তিনি বলছেন কেমব্রিজে তাঁর কাজের জন্য তিনি “চরম সহানুভূতি ও উৎসাহ” পান।
নাসার ১৯৯৮ সালের বিজ্ঞপ্তি বলছে, চন্দ্রশেখর ও তাঁর স্ত্রী ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন। পার্কার ও নোবেল ফাউন্ডেশন তাঁদের শিকাগোয় আসা ধরেছে ১৯৩৬ সালের শেষ বা ১৯৩৭ সালের জানুয়ারিতে।
সূত্র ও আরও পড়ার জন্য
- Subrahmanyan Chandrasekhar: Biographical, Nobel Prize in Physics 1983
- Nobel Prize in Physics 1983: Press release (19 October 1983)
- Subrahmanyan Chandrasekhar: Facts, Nobel Prize in Physics 1983
- S. Chandrasekhar, Nobel Lecture, 8 December 1983: On Stars, Their Evolution and Their Stability (PDF)
- S. Chandrasekhar, The Maximum Mass of Ideal White Dwarfs, Astrophysical Journal 74, 81 (1931), NASA Astrophysics Data System scan
- Eugene N. Parker, Subrahmanyan Chandrasekhar, Biographical Memoirs of the National Academy of Sciences, vol. 72 (1997)
- Freeman Dyson, Chandrasekhar's role in 20th-century science, Physics Today (1 December 2010)
- MacTutor History of Mathematics (University of St Andrews): The Chandrasekhar-Eddington dispute
- Maureen Searcy, It was written in the stars, The University of Chicago Magazine (Winter 2023)
- University of Chicago Library: Guide to the Subrahmanyan Chandrasekhar Papers 1923-1995 (finding aid)
- Arthur I. Miller, D. C. V. Mallik and Kameshwar Wali, Letters on the life of Chandrasekhar, Physics Today (September 2006)
- Chandra X-ray Center: NASA Names Premier X-Ray Observatory and Schedules Launch (21 December 1998)
- Chandra X-ray Center: About Chandra
- NASA HEASARC: A Test of Type Ia (High Energy Astrophysics Picture of the Week, 22 February 2010)
- Lawrence Berkeley National Laboratory: Standard-Candle Supernovae are Still Standard, but Why? (3 March 2014)
- Nobel Prize in Physics 2011: Press release (4 October 2011)
এই লেখাটি AI সরঞ্জামের সহায়তায় গবেষণা ও রচনা করা হয়েছে এবং নির্ভুলতার জন্য সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ তথ্য ও আলোচনার জন্য, পেশাদার পরামর্শ নয়। আমাদের সম্পাদকীয় মান ও দাবিত্যাগ দেখুন। কোনো ভুল চোখে পড়ল? আমাদের জানান।
ভালো লাগল? পরেরটিও পড়ুন।
একবারে একটি ভালো লেখা, সরাসরি আপনার ইনবক্সে। কোনো স্প্যাম নয়, যখন খুশি বন্ধ করতে পারেন।